
নরসিংদীতে ভূমিকম্পের সূত্রস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বাবা–ছেলেসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক মানুষ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান এবং শিবপুর ইউএনও মোছাম্মদ ফারজানা ইয়াসমিন।
নিহতরা হলেন—দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার ছেলে ওমর ফারুক (৮), কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০), নাসির উদ্দিন (৫০) এবং ফোরকান মিয়া।
শহরের গাবতলী এলাকায় একটি ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে পাশের একতলা ভবনের ওপর আঘাত হানলে দেলোয়ার, তার ছেলে ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হন। প্রথমে তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে বাবা–ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তাদের মৃত্যু ঘটে।
পলাশ উপজেলার মালিকা গ্রামে মাটির ঘরের দেয়ালচাপায় কাজম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন চাচাতো ভাই আউয়াল মিয়া।
এছাড়া পলাশের ডাঙ্গা কাজিরচর এলাকায় সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৫) ভূমিকম্পের ভয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।
একই সময়ে শিবপুরের জয়নগর ইউনিয়নের আশকিতলা গ্রামে গাছে উঠে ডাল কাটছিলেন ফোরকান মিয়া। কম্পনের সময় গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভূমিকম্পে জেলাজুড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশের মতো নরসিংদীতেও কম্পন অনুভূত হয়। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ও নরসিংদী শহরে কম্পনের প্রভাব বেশি ছিল। লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটতে থাকেন।
ঘোড়াশাল এলাকায় ছয়টি বাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। এছাড়া এসএ প্লাজা নামের সাততলা একটি শপিংমলেও দূরত্বে ফাটল ধরে। বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদের ইট খসে পড়ে ক্ষতি হয়। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের আঙিনায় মাটিও দেবে যায়।
ঘটনার পর নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম গাবতলী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, জেলায় অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর রয়েছে এবং যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে আছে ও নিরাপত্তায় সচেষ্ট।
মন্তব্য করুন