

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সময়ের সফল অর্থমন্ত্রীর সন্তান এম. নাসের রহমান—মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বিএনপি নেতা। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৫ জুন) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন, নাসের রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন দুদক মহাপরিচালক।
📌 নাসের রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নাসের রহমান—
গোপনে ৬ কোটি ৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন যা তার ঘোষিত আয়সূত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন রয়েছে, যার উৎস স্পষ্ট নয়।
অতীতে সরকারি টেন্ডার থেকে ১৫–২৫% কমিশন আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যার কারণে স্থানীয় মহলে তাকে “Mr. 25%” নামে আখ্যায়িত করা হয়।
⚖️ আইনি কার্যক্রম ও দুদকের পদক্ষেপ
২০০৭ সালে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তদন্ত শেষে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদের একটি অংশ জব্দ ও ফ্রিজ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে নতুন করে আবার তদন্তে নামে দুদক এবং তার বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ বিশ্লেষণ শুরু করে।
বর্তমানে পাঁচটি ব্যাংককে চিঠি দিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে।
🗃️ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচিতি
নাসের রহমান সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের সন্তান।
২০০১-২০০৬ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এবং পরে জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অভিযোগ ও রাজনৈতিক দুর্বলতা—সব মিলিয়ে তার রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে।
📊 ক্ষমতা বনাম জবাবদিহিতা
নাসের রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের দীর্ঘ ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। দুদকের এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে—দায়বদ্ধতার আওতায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়: কেন এত বছর পর আবার অনুসন্ধান শুরু হলো? তার পিতা সাইফুর রহমানের জনপ্রিয়তার ছায়া কি এখনো তাকে রক্ষা করছে?
🧾 পরিশেষে বলা যায়
বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এখনও দীর্ঘ। তবে নাসের রহমানের মত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা অবশ্যই ইতিবাচক। যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দেশের আইন, জনগণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য এক সাহসী দৃষ্টান্ত হবে।
📂 তথ্যসূত্র
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সূত্র ও চিঠি, প্রথম আলো, বিডিনিউজ, নিউ এজ, জনকণ্ঠ, হাইকোর্টের রায় ও আপিল বিভাগ সংক্রান্ত দলিল, ২০০৭ ও ২০২৫ সালের অনুসন্ধান রিপোর্টের সারাংশ।
মন্তব্য করুন