
“আমরা চাই ৩৬ জুলাইয়ের মতো একতা”
সেই ৩৬ জুলাইয়ের কথা মনে আছে?
যখন রাস্তা ছিলো মানুষের স্রোতে ভরা,
যখন পরিচয় ছিল না গোষ্ঠী, দল, বিভাজনের বুলি,
শুধু একটাই পরিচয়—”আমি মানুষ”, আর মুখে ছিল সাহসের বুলি।
আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বলেছিল—
“যদি গুলিই হয় তোমার উত্তর, তবে আমার বুক নাও,”
সে পড়েছিলো রাস্তায়, কিন্তু উঠেছিলো শত সহস্র কণ্ঠ,
তার রক্তেই লেখা হয়েছিল—
ভয় নয়, শুধু সম্মান আর সত্যেরই কণ্ঠ।
মীর মুগ্ধ হাঁটছিল মানুষের মাঝে,
কারো মুখ শুকনো দেখে জিজ্ঞেস করেছিল—
“কারো পানি লাগবে পানি ?”
সে জানত বিপ্লব শুধু আগুন নয়,
বিপ্লব হলো পানি হাতে এগিয়ে যাওয়া—
সাহসের নরম ছোঁয়ায়।
সাংবাদিক আবু তোরাব ক্যামেরা হাতে ধরেছিল-
তার লেন্সে দেখা গিয়েছিল বুলেট আর মানুষের ধৈর্য্য,
সে ছিল নিঃশব্দ যোদ্ধা,
কলম যার গ্রেনেড, রিপোর্ট যার বিদ্রোহের পথ,
তাকে গুলি করেছিল, কিন্তু তার লেন্স থেমে যায়নি, সত্যকে করে গিয়েছিল মুক্ত।
আর বেলকনিতে দাঁড়িয়েছিল শিশুদের দল,
যাদের চোখে ছিল বিস্ময়, বুক ভরা বিস্মৃত ফুল।
গ্রেনেডের শব্দে উঁকি দিয়েছিল তারা,
কিন্তু পেল না খেলনা—পেল এক রাষ্ট্রের হিংস্র যন্ত্রণা।
তাদের মুখ আর নেই,
তাদের মৃত্যু আমাদের লজ্জা—একটি দেশের অন্তহীন দীনতা স্রেফ দেখা যায়।
আর তারপরে?
পথে নেমেছিল জনতা, অসহায়, পঙ্গু, ব্যান্ডেজ জড়ানো মুখ,
তবু বলেছিল—“আমরাই গড়বো দেশ, আর নয় ভয়, আর নয় থমকে থাকা বুক।”
তাদের কেউ শহীদ, কেউ আহত, কেউ অন্ধ,
তবু তারা এক ছিল, একসাথে গেয়েছিল—”আমাদের ভবিষ্যৎ হবে সম্মানপূর্ণ ।”
কিন্তু আজ?
আজ আমরা বিভক্ত, ভিন্ন পতাকায়, ভিন্ন শ্লোগানে,
একতার সেই জোয়ার নেই, আছে শুধু বিতর্কের মানে।
একজন আরেকজনকে দেখে সন্দেহ করে,
বলে—“তুই কাদের?”—মানুষ নয়, পরিচয়ের ফেরেস্তায় মরে।
আমরা কি ভুলে গেছি সেই আগুনে দিন?
যখন পরিচয় ছিল কেবল প্রতিবাদের শব্দ, সত্যের ধ্বনি?
আজ শুধু স্ক্রিনে চোখ, সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যে যুদ্ধ,
রাস্তার সে সাহস আজ পালিয়ে বেড়ায় একা, নিঃশব্দ।
তাই বলছি….
তাই আজ বলছি, বন্ধু, সহযোদ্ধা, ভাই-বোন,
চলো আবার সেই ৩৬ জুলাই ফিরে আনি মন-মগজে, নয় আর রক্তের পথে,
চলো জেগে উঠি, এক হই—দল-মত নির্বিশেষে,
চলো গড়ে তুলি এমন বাংলাদেশ—
যেখানে শহীদের স্মৃতি শুধু শোক নয়,
হোক কর্মে আলোকিত একতার শক্তিময় জয়।
আমরা চাই না আর একটি লাশ, আর একটি শিশু হারাক না তারার কোমল পবিত্র হাসি,
আমরা চাই একতা, আলো, দায়িত্ববোধ, আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভাষা।
আমরা চাই ৩৬ জুলাইয়ের মতো
সাহসিকতা, প্রেম, প্রতিবাদ,
আর তার মধ্য দিয়েই
গড়ে তুলতে চাই—একটি সুন্দর, সমান, মানবিক বাংলাদেশ।
✍🏻 শফিকুল ইসলাম-(আহ্বায়ক রণাঙ্গন)
মন্তব্য করুন