
ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টা রক্তাক্ত রয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ে অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শুধু গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনের মরদেহ।
চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় এক বাড়িতে পরিচালিত বিমান হামলায় একই পরিবারের নয় সদস্য প্রাণ হারান। এছাড়া শেখ রাদওয়ান পাড়ায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
যুদ্ধবিরতি বলবৎ হওয়ার পরও শুক্রবার ভোরের দিকে গাজার একাধিক স্থানে বিমান হামলা, আর্টিলারি শেলিং এবং ড্রোনের তৎপরতা চোখে পড়ে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-কাতিবা এলাকায় প্রবল গোলাবর্ষণের পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রেও বেশ কয়েকটি তীব্র বোমাবর্ষণ চলতে থাকে।
একই সময়ে পূর্ব গাজা সিটির বিভিন্ন পাড়ায় বিমান হামলা, কামানের গোলা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার, মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ এবং বন্দি বিনিময়–সংক্রান্ত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৭,৬৮২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,০৩৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
এ ছাড়া খাদ্যসংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণে আরো ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৪ জন শিশু রয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুল আলোচিত “ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি” বাস্তবে মাঠে কার্যকর হওয়ার আগেই বড় ধরনের আঘাত খেয়েছে—ফলে গাজা আবারও এক অনিশ্চিত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন