আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ নভেম্বর ২০২৫, ৪:৩৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ৩৫ জন নিহত।

ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গত ২৪ ঘণ্টা রক্তাক্ত রয়ে গেছে। গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ে অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শুধু গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনের মরদেহ।

চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় এক বাড়িতে পরিচালিত বিমান হামলায় একই পরিবারের নয় সদস্য প্রাণ হারান। এছাড়া শেখ রাদওয়ান পাড়ায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

যুদ্ধবিরতি বলবৎ হওয়ার পরও শুক্রবার ভোরের দিকে গাজার একাধিক স্থানে বিমান হামলা, আর্টিলারি শেলিং এবং ড্রোনের তৎপরতা চোখে পড়ে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-কাতিবা এলাকায় প্রবল গোলাবর্ষণের পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রেও বেশ কয়েকটি তীব্র বোমাবর্ষণ চলতে থাকে।

একই সময়ে পূর্ব গাজা সিটির বিভিন্ন পাড়ায় বিমান হামলা, কামানের গোলা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার, মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ এবং বন্দি বিনিময়–সংক্রান্ত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৭,৬৮২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,০৩৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া খাদ্যসংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণে আরো ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৪ জন শিশু রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুল আলোচিত “ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি” বাস্তবে মাঠে কার্যকর হওয়ার আগেই বড় ধরনের আঘাত খেয়েছে—ফলে গাজা আবারও এক অনিশ্চিত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক চলে মাদক সেবন ও অস্ত্র মহড়া

ঝুঁকিপূর্ণ ইলিয়াস হল সংস্কারের দাবিতে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদে গুলিতে নিহত কৃষক, আহত আরেকজন

ভূমিকম্পে আহত শিশু হাফেজ ওমরের পর মারা গেলেন তার বাবা

ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে নিহত ৫, আহত শতাধিক

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অবস্থান জানালো পাকিস্তান

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল, বাতিল হলো আগের রায়

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরলে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের নামাজের সময়সূচি

কঠিন সময়ে প্রশান্তি পেতে নবীজির শেখানো দোয়াটি

১০

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ৩৫ জন নিহত।

১১

ছাত্রদল প্যানেলে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার নেতার জায়গা, পেছনের কারণ কী?

১২

বাংলাদেশের কাছে হারের পর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ নিচে ভারত

১৩

পুরনো ভিডিওকে “ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির ওপর হামলা” শিরোনাম প্রচার ভারতীয় মিডিয়া

১৪

এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৫

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ দলকে ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

১৬

জুলাই আন্দোলনে গুম হওয়া নূর নবী এবার জকসু নির্বাচনের প্রার্থী

১৭

২২ বছর পর ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

১৮

এশিয়ান কাপ বাছাই: আজ রাতে বাংলাদেশ–ভারত মুখোমুখি

১৯

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড সিদ্ধান্তের পর টিএসসিতে ভোজ আয়োজন ঢাবি শিক্ষার্থীদের

২০