
প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরসা (ARSA)-র সদস্যদের মাথায় দেখা গেছে উন্নতমানের ব্যালাস্টিক হেলমেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হেলমেটটি MICH (Modular Integrated Communications Helmet) ক্যাটাগরির, যা সাধারণত সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স বা এলিট ইউনিটগুলো ব্যবহার করে থাকে।
এই বুলেটপ্রুফ হেলমেট ৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বুলেটের আঘাত থেকে মাথাকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। এছাড়া এতে NVG (Night Vision Goggles) ও Thermal Imaging Device সংযোজনের জন্য বিশেষ মডিউলার রেইল সিস্টেম রয়েছে—যা রাতের অন্ধকারে যুদ্ধ পরিচালনায় বড় সুবিধা দেয়।

এই ধরণের উন্নত সরঞ্জাম সাধারণত সামরিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো ব্যবহার করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্রোহী সংগঠন আরসা কীভাবে এমন উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম হাতে পেলো?
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সরঞ্জাম সরবরাহের পেছনে কোনো না কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সহায়তা রয়েছে। এ ধরনের সহায়তা গোপন কূটনৈতিক বা সামরিক স্বার্থের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
রাখাইন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জাতিগত ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আরসার হাতে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম দেখা যাওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—রাখাইন সংকট এখন আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। বরং এর পেছনে ইতোমধ্যেই বহিরাগত শক্তির প্রভাব সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্তব্য করুন