স্পোর্টস ডেস্ক
১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

২২ বছর ধরে না-ফেরা জয়,আজ কি ভারতকে ঘুম ভাঙাবে বাংলাদেশ?

ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দুই দশকের বেশি সময় কেটে গেছে। এরপরের ২২ বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার—৬ ম্যাচ ড্র হলেও বাংলাদেশ হেরেছে ৪টিতে। সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইটি হয় চলতি বছরের ২৫ মার্চ, শিলংয়ে, যা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে।

আজ, ১৮ নভেম্বর ২০২৫—এক দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে দুই দল খেলবে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি দুই দলের ৩০তম সাক্ষাৎ।

২০০৩ সালের সেই ম্যাচে মতিউর রহমান মুন্নার গোল্ডেন গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। ৭১ মিনিটে কাঞ্চনের গোলে এগিয়ে গেলেও ৮১তম মিনিটে ভারতের আলভিতো ম্যাচে সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে বাম দিক থেকে মুন্নার দুর্দান্ত শট জাল খুঁজে নেয়, যা বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ফাইনালে এবং পরবর্তীতে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফ শিরোপা জেতে লাল-সবুজরা—যা এখনো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের একমাত্র বড় অর্জন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য খুব বেশি নয়। দুই দলের প্রথম লড়াই হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে, যেখানে ৩-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ভারত। ৪৭ বছরে হওয়া ২৯ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনবার; ভারত জয় পেয়েছে ১৩টি, আর বাকি ১৩টি শেষ হয়েছে ড্রয়ে।

বাংলাদেশের প্রথম জয় আসে ১৯৯১ সালে এসএ গেমসে, রুমি রিজভী করিমের জোড়া গোলে। এরপর ১৯৯৯ সালের কাঠমান্ডু এসএম গেমস ও ২০০৩ সালের সাফ সেমিফাইনালে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। ওই দুই জয়ের টুর্নামেন্টেই স্বর্ণ ও শিরোপা জেতে লাল-সবুজরা।

২২ বছর পর আবার ভারতকে হারানোর প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। দলের শক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি—হামজা দেওয়ান চৌধুরী ও শামিত সোমরা দলে এনে দিয়েছেন নতুন প্রাণ। যদিও দুই দলই এবার ইতোমধ্যে বাছাই থেকে ছিটকে গেছে, তবু মর্যাদার লড়াই বলেই ম্যাচের গুরুত্ব অটুট।

বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেকের পর হামজা ৬ ম্যাচে চার গোল করে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে ভারত পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে আসতে পারেনি। অন্তত পাঁচজন খেলোয়াড়ের অভিষেকের সম্ভাবনা রয়েছে। মোহনবাগানের কোনো খেলোয়াড়কেই দলে নেননি নতুন প্রধান কোচ খালিদ জামিল, যিনি ২০১১ সালের পর আবার কোনো স্থানীয় কোচ হিসেবে ভারতকে কোচিং করাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা জানিয়েছেন, শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ এবং জয়ের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে। যদি আজ বাংলাদেশ জয় পায়, তাহলে দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটবে আবারও।

২০১৯ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মতো এবারও বাংলাদেশ এখনও জয়ের দেখা পায়নি। চার ম্যাচে দুটি ড্র নিয়ে টিকে আছে লাল-সবুজরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক চলে মাদক সেবন ও অস্ত্র মহড়া

ঝুঁকিপূর্ণ ইলিয়াস হল সংস্কারের দাবিতে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদে গুলিতে নিহত কৃষক, আহত আরেকজন

ভূমিকম্পে আহত শিশু হাফেজ ওমরের পর মারা গেলেন তার বাবা

ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে নিহত ৫, আহত শতাধিক

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অবস্থান জানালো পাকিস্তান

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল, বাতিল হলো আগের রায়

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরলে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের নামাজের সময়সূচি

কঠিন সময়ে প্রশান্তি পেতে নবীজির শেখানো দোয়াটি

১০

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ৩৫ জন নিহত।

১১

ছাত্রদল প্যানেলে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার নেতার জায়গা, পেছনের কারণ কী?

১২

বাংলাদেশের কাছে হারের পর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ নিচে ভারত

১৩

পুরনো ভিডিওকে “ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির ওপর হামলা” শিরোনাম প্রচার ভারতীয় মিডিয়া

১৪

এবারও বিজয় দিবসে প্যারেড নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৫

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ দলকে ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

১৬

জুলাই আন্দোলনে গুম হওয়া নূর নবী এবার জকসু নির্বাচনের প্রার্থী

১৭

২২ বছর পর ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

১৮

এশিয়ান কাপ বাছাই: আজ রাতে বাংলাদেশ–ভারত মুখোমুখি

১৯

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড সিদ্ধান্তের পর টিএসসিতে ভোজ আয়োজন ঢাবি শিক্ষার্থীদের

২০