
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরদিন রবিবার (১৬ নভেম্বর) দিনজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—লতিফপুরের ইমন হোসেন (২১), আলমগীর হোসেন (৪০) এবং হুসাইন কবির সেলিম (৫০)।
নিহত আবুল কালাম জহির (৪০) চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম লতিফপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
হত্যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঘটনাটি নিন্দা জানিয়ে বলেন—এটি পরিকল্পিত হত্যা। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি ফয়েজুল আজীম নোমান জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা—মাদক ব্যবসা ও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মূল অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলছে—‘ছোট কাউছার’ ও তার সহযোগীরা হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন স্বজনরা।
পুলিশ জানায়, ছোট কাউছারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা এবং দণ্ড রয়েছে। নিহত জহিরের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মামলা ছিল।
গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চন্দ্রগঞ্জের মোস্তাফার দোকান এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা প্রথমে জহিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আরও গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, জহির ও ছাত্রদল–সংশ্লিষ্ট ছোট কাউছার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে সংঘাত চলছিল।
মন্তব্য করুন