

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মানবিকতার নিদর্শন রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন শেখ আপন (২২) নামে এক তরুণ।
এক পথচারী নারীকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শেখ আপন। তার মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত শেখ আপন মির্জাপুর পৌরসভার পোস্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ বাবুলের ছেলে।
পরিবারের একমাত্র প্রিয় সন্তান শেখ আপন ছিলেন এলাকার তরুণদের মধ্যে সবার প্রিয় মুখ।
মৃত্যুর সময় তিনি বাবা-মা, এক ভাই, এক বোন এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
বন্ধু ফয়সাল সিকদার জানান, “গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর সদরের বাইপাস স্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্ভিস লেন দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী পথচারী রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
নারীটিকে আঘাত করা থেকে বাঁচাতে গিয়ে শেখ আপন মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।”
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে নেন।
তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে তিনি সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার রাতে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) আসরের নামাজের পর মির্জাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শেখ আপনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর তাকে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক মানুষ।
তরুণ বয়সে শেখ আপনের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বন্ধুরা বলছেন— “আপন ছিল সবার প্রিয়, হাসিখুশি আর দায়িত্বশীল। অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছে— এমন আত্মত্যাগ আমরা কখনও ভুলব না।”
শেখ আপনের পরিবারের সদস্যরাও বলেছেন, “আমরা আমাদের ছেলেকে হারিয়েছি, কিন্তু তার মানবিকতা আমাদের গর্বিত করেছে। সে হয়তো চলে গেছে, কিন্তু তার ভালোবাসা ও দয়ার গল্প মানুষ চিরকাল মনে রাখবে।”
Comment