
বিশ্বজুড়ে এইচআইভি/এইডস এখনো এক গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ। বাংলাদেশেও প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
সিরাজগঞ্জ ও বরিশাল অঞ্চলে সম্প্রতি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শুধু সিরাজগঞ্জ জেলাতেই ২৫৫ জনকে এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো অঞ্চলটিকে ‘রেড জোন’ ধরা হয়নি।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) হিসাব বলছে—গত এক বছরে এখানে ২০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় শিক্ষার্থী।
এ সময়ে দেশজুড়ে নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকায় — ৩৩৪ জন। এরপর কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগেও শনাক্তের হার বেশি; বিশেষত সিরাজগঞ্জে উদ্বেগ বাড়ছে বলে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সচেতনতা ও পরীক্ষার হার বাড়ায় শনাক্তের হারও স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যারা পরীক্ষা করতেন না, এখন তারা সহজেই টেস্ট করাতে আসছেন — ফলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৮ জন। একই সময়ে এইডসে মৃত্যুবরণ করেছেন ২০০ জন।
সচেতনতা ও প্রতিরোধই মূল
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে ভীতি নয়, সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং-ই আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একইসঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য কমানো প্রয়োজন—কারণ তা রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
আজ বিশ্ব এইডস দিবস। এই দিনটি সামনে রেখে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন—সমাজের সবাই সচেতন হলে, দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা সম্ভব হলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করাই লক্ষ্য।
Comment