

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষ ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন তারা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে এক অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ইসলামী অনুশাসন নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এসব অভিযোগে শিক্ষিকা লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন-
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন স্প্রিং-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী জামশেদ কুতুব পাশা। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি, পরীক্ষায় পক্ষপাতমূলক মূল্যায়ন এবং মানসিক নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জুম্মার নামাজের পর অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদ শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি গ্রুপ ছবি তোলেন। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়, যা শিক্ষার্থীদের মতে সরাসরি ধর্মীয় পক্ষপাত ও ইসলামবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়—
১) শিক্ষিকা লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার
২) ইসলামবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের দায় নিয়ে উপাচার্য কামরুল আহসানের পদত্যাগ
৩) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিয়মিত মতবিনিময় সভা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।
Comment