
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত যুবককে (২১) দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয়: গ্রেফতার হওয়া তরুণের নাম রিংকু রংদী, তিনি দুর্গাপুর উপজেলার মাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সুপারসন চাম্বুগং। তারা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয়: ভুক্তভোগী কিশোরীটির বয়স ১৪ বছর। সে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং সেখানকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীর পরিবার ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
ঘটনার বিবরণ: মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রমতে জানা যায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকে রিংকুর সঙ্গে ওই কিশোরীর বন্ধুত্ব হয়। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে মেয়েটি তার পরিবারকে দুর্গাপুরে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।
সারাদিন রিংকু ওই কিশোরীকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘোরান। সন্ধ্যায় তিনি নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিলে মেয়েটি রাজি হয়ে যায়। রিংকু তাকে নিজেদের শয়নকক্ষে থাকতে দেন এবং নিজে অন্য ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু রাত ১১টার দিকে রিংকু কৌশলে সেই কক্ষে প্রবেশ করেন এবং কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।
কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন। তারা ফোনে কিশোরীর পরিবারকে বিষয়টি জানান।
পরদিন সকালে কিশোরীর মা দুর্গাপুরে এসে মেয়েকে উদ্ধার করেন। এরপর মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রিংকু রংদীর বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রিংকুকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের বক্তব্য: দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
Comment