

গভীর সমুদ্রকে জলদস্যুমুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ লক্ষ্যে বহিঃসমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ। নৌবাহিনীর এই শক্তিশালী উপস্থিতির ফলে গভীর সমুদ্র ও এর নিচে থাকা বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন নিরাপদ থাকছে, তেমনি নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারছেন জেলেরা।
বাংলাদেশের বহিঃসমুদ্রের জলসীমা প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা দেশের স্থলসীমার প্রায় সমান। এই বিশাল জলসীমা ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে নৌবাহিনী। পাশাপাশি বেসামরিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে সামুদ্রিক গবেষণার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনীটি।
আরও পড়ুন-
নৌবাহিনীর অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ খালিদ বিন ওয়ালিদ বহিঃসমুদ্রে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ত্রিমাত্রিক সক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি আকাশ, পানি ও পানির নিচে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম। জাহাজটিতে থাকা অত্যাধুনিক মিসাইল ব্যবস্থা আকাশে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি পানির নিচে ৭ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে সাবমেরিনসহ যেকোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম টরপেডো রয়েছে এতে।
এছাড়া পানি থেকে ভূমিতে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতাও রয়েছে এই যুদ্ধজাহাজে। উন্নত সেন্সর ও ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে চলমান লক্ষ্যবস্তুকেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নৌবাহিনীর এই শক্ত অবস্থানের কারণে বহিঃসমুদ্রে নৌবাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে শুধু জাতীয় স্বার্থ নয়, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তাও রক্ষা করা হচ্ছে।
নিয়মিত টহল ও শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতির ফলে বহিঃসমুদ্রের সম্পদ সুরক্ষিত থাকছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নৌবাহিনীর এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সমুদ্রে প্রথম সারির প্রতিরক্ষায় বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদের মতো ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার শক্ত বার্তা দিচ্ছে নৌবাহিনী।
Comment