
চরম অব্যবস্থাপনায় ভেস্তে গেল মেসির কলকাতা সফর, ক্ষোভে ফুঁসলো গ্যালারি
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখার স্বপ্ন নিয়ে হাজারো ভক্ত ভিড় জমিয়েছিলেন কলকাতার সল্টলেক যুব ভারতী স্টেডিয়ামে। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনা আর নিরাপত্তাজনিত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে তাদের। মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও মেসিকে মাঠে দেখার সুযোগ পাননি অধিকাংশ দর্শক।
শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। ক্ষুব্ধ দর্শকরা চেয়ার ও পানির বোতল ছুড়ে মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফেন্সিং টপকে কয়েক হাজার মানুষ মাঠে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
মেসিকে দেখার আশায় কেউ এসেছিলেন হুইলচেয়ারে, কেউ আবার নিজেদের হানিমুন পর্যন্ত বাতিল করেছিলেন। এক নবদম্পতি জানান, “আমাদের বিয়ে হয়েছে কয়েক দিন আগে। হানিমুন বাদ দিয়ে ভিআইপি টিকিট কিনেছিলাম শুধু মেসিকে দেখার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই দেখতে পারিনি।”
কলকাতায় মেসির সফর ছিল ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের। সকাল থেকেই ব্যস্ত সূচি ছিল আর্জেন্টাইন তারকার। হোটেল থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তার ৭০ ফুট দীর্ঘ মূর্তি, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও তার ছেলে আব্রাহাম। সফরে মেসির সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো।
এরপর সল্টলেকের যুব ভারতী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন মেসি। তবে গ্যালারি থেকে তাকে স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ পাননি দর্শকরা। চারপাশে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ তাকে ঘিরে রাখায় মেসি, এমনকি সুয়ারেজ ও রদ্রিগোকেও ঠিকমতো দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মিনিট।
এই সময় গ্যালারি থেকে ওঠে “উই ওয়ান্ট মেসি” স্লোগান। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন শাহরুখ খানসহ অতিথিরা। কথা থাকলেও মাঠে উপস্থিত ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌরভ গাঙ্গুলী। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে দর্শকদের মধ্যে।
একজন সমর্থক বলেন, “মেসি একবারের জন্যও ফুটবল ছুঁলেন না। আমরা কিছুই দেখতে পাইনি। আমাদের অর্থ, আবেগ আর সময়—সবই নষ্ট হয়েছে।”
কলকাতার অভিজ্ঞতায় হতাশ হলেও এখনো আশায় বুক বাঁধছেন হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লির মেসি ভক্তরা।
Comment