
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাকে মারধরের অভিযোগে এক যুবককে অভিনবভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত যুবককে রাস্তার পাশে মাটি খুঁড়ে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রাখা হয়। ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম খলিল (২৮)। তিনি শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে। শনিবার সকালে টেপিরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদকাসক্ত খলিল শনিবার সকালে তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ইট ছুড়ে মারেন। এতে ইটের আঘাতে তার মা পায়ে আহত হন। মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে খলিলকে আটক করে প্রথমে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন।
পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সম্মতিতে ছাতিরবাজার-টেপিরবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের পাশে মাটি খুঁড়ে খলিলকে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রাখা হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
প্রতিবেশী রেহেনা আক্তার জানান, খলিল দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একাধিকবার মাকে মারধর করেছেন। তাকে ভয় দেখানো ও সতর্ক করতেই এলাকাবাসী এ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করে।
খলিলের মা খোদেজা খাতুন বলেন, তার ছেলে নিয়মিত নেশা করে এবং গাঁজা সেবন করে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজসহ তিনদিন ধরে আমাকে মারছে। সকালে টাকা না দেওয়ায় ইট দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিলেন এবং টাকা না পাওয়ায় ইট নিক্ষেপ করেছিলেন। পরে এলাকাবাসী তাকে ধরে এনে মাটিতে পুঁতে রাখে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comment