
বিশ্ব অর্থবাজারে অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কা খেতে শুরু করেছে ডিজিটাল মুদ্রার বাজারও। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ধারাবাহিক পতন ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানো নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা মিলিয়ে আবারও নেমে এসেছে বিটকয়েনের মূল্য।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ট্রেডিং ইকোনমিক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাজারে জনপ্রিয় এই ক্রিপ্টোকারেন্সিটি দিনের লেনদেনে প্রায় ৮৯ হাজার ডলারের কাছাকাছি দামে কেনাবেচা হয়েছে।
এর আগের শুক্রবার বিটকয়েনের দর সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে নেমে গিয়েছিল—সেদিন এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে ৯৪ হাজার ডলারের ঘরে, যা গত ৭ মে–এর পর সর্বনিম্ন অবস্থান হিসেবে গণ্য হয়।
গত এক মাসের তুলনায় বিটকয়েন প্রায় ১৭ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই—৬ অক্টোবর—ডিজিটাল মুদ্রাটির মূল্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছিল। ওই দিন প্রথমবারের মতো বিটকয়েনের দাম ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।
বাজার–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো–বান্ধব অবস্থানের কারণে ডিজিটাল সম্পদে নতুন করে বিনিয়োগের জোয়ার দেখা দেয়। সে কারণে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল।
তবে সেই রেকর্ড ভাঙা উত্থানের পর বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের দাম কমেছে ৩০ শতাংশের বেশি। বিনিয়োগকারীদের একাংশ শেয়ারবাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ঝুঁকি কমাতে ডিজিটাল সম্পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তারল্য সংকটের আশঙ্কা এবং বাজারে আস্থাহীনতার প্রবণতা বাড়তে থাকায় বিটকয়েনের বাজার সামনে আরও কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল হলেও স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
Comment