
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলাম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ করা হলেও হিন্দুধর্মের উপাধিধারী শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন এই গ্রেড–বিন্যাসকে বৈষম্যমূলক বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
রবিবার প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫–এ হিন্দুধর্মের উপাধি ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের বেতন দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অন্য ধর্মের শিক্ষকরা মনে করছেন, একই পদে থেকে ভিন্ন গ্রেড নির্ধারণ ন্যায্য নয়।
সংশোধিত নীতিমালার পরিশিষ্টে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বেতনসংক্রান্ত ধারা নতুন করে সাজানো হয়েছে। ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ফাজিল অথবা অন্তত ৩০০ নম্বরের আরবি/ইসলামিক স্টাডিজসহ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য বেতন গ্রেড রাখা হয়েছে ১১। কিন্তু হিন্দুধর্মের ক্ষেত্রে উপাধি ও স্নাতক ডিগ্রিধারীরা পড়বেন ১০ম গ্রেডে। উপাধি ছাড়া সংস্কৃত বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে গ্রেড হবে ১১।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, একই পদে থেকে ভিন্ন ধর্মের শিক্ষকদের আলাদা গ্রেড দেওয়া স্পষ্ট বৈষম্য। দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে সব সহকারী শিক্ষককে একই—১০ম—গ্রেডে আনার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী জানান, মাউশির প্রস্তাবের ভিত্তিতেই হিন্দুধর্মের উপাধিধারী শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেড নির্ধারিত হয়েছে।
পূর্বের নীতিমালার পর্যালোচনা করে জানা যায়—২০১৩ সালের এমপিও নীতিমালায় উপাধিপ্রাপ্ত হিন্দুধর্ম শিক্ষকদের শুরু থেকেই ১০ম গ্রেড দেওয়া হত। ২০১৮ সালে পরিবর্তন এনে বলা হয়, উপাধিসহ বিএড করলে তবেই ১০ম গ্রেড প্রযোজ্য হবে। ২০২১ সালের সংশোধনে উপাধি ও স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই ১০ম গ্রেডের বিধান রাখা হয়। তবে ২০১৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই গ্রেড কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি বহু বছর ঝুলে ছিল।
অবশেষে ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালায় উপাধিপ্রাপ্ত হিন্দুধর্ম শিক্ষকদের জন্য আবারও ১০ম গ্রেড নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি—সমতা ও বৈষম্যমুক্ত কাঠামো নিশ্চিতে সব ধর্মের সহকারী শিক্ষকদেরই একযোগে ১০ম গ্রেড দেওয়া প্রয়োজন।
Comment