
জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বারবার ছাত্রজনতার ক্ষোভের মুখে পড়েছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীর পরিকল্পিত মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার ক্ষোভ যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হাদীর পরিকল্পিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাহবাগে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর সেই বিক্ষোভ দ্রুত রাজধানীর কার্বন বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রজনতার অভিযোগ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াত এবং বারবার মুসলিমদের জঙ্গি হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করতো।
বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য—দাড়ি, টুপি কিংবা ইসলামি চেহারা দেখলেই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার তাদের জঙ্গি পরিচয়ে প্রচার করত এবং জনমনে ভয় ও ঘৃণা তৈরির জন্য সক্রিয়ভাবে “মব তৈরি” করত। এই প্রক্রিয়াতে সংবাদমাধ্যম দুটির সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে দাবি ছাত্রদের।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই দুই সংবাদমাধ্যমকে ফ্যাসিস্টদের ঘাঁটি এবং ভারতপন্থী প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করে অনেকেই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আটকে পড়া গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রথম আলোয়ের চারতলা ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ডেইলি স্টার অফিসের নিচতলা ও দোতলাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও জানান কর্মীরা।
এ ঘটনার পর শুক্রবার প্রকাশিত হয়নি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা। অনলাইন কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ। সংবাদমাধ্যম দুটি জানিয়েছে—কার্যক্রম পুনরায় চালুর আগ পর্যন্ত পাঠকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় আগ্রাসন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ওসমান হাদীর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ক্ষোভই এই ঘটনার সূত্রপাত। জনতার অভিযোগ—হাদী সম্পর্কে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণাই এই আগুনের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
Comment