
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদি স্মরণ খালেদা জিয়া দোয়া মাহফিল ঢাবি রোজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এই আয়োজন ১ জানুয়ারি ঢাবি টিএসসি চত্বরে ‘মোনাজাতে ইনসাফ’ কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে রোজা পালন শুরু করেন এবং বাদ যোহর সম্মিলিত কোরআন খতমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টায় নতুন বছরকে সামনে রেখে সালাতুল হাজত আদায় করা হয়।
এরপর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়রতের মাধ্যমে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলটি ঢাবি টিএসসি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা একত্রে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নৈতিক দায়িত্ববোধের জন্য প্রার্থনা করেন। মাগরিবের আগে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত ইফতারে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তৃতা দেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে আধিপত্যবিরোধী সাংস্কৃতিক চেতনা পৌঁছে দেওয়ার। শহীদ ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন, একক সংগঠন বা ব্যক্তি নয়, শতাধিক সংগঠন এবং অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই চেতনা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে যাবে।
জুমা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা অনুযায়ী—গান, নৃত্য, চিত্রকলা এবং অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন। তবে কেউ জোরপূর্বক বাধ্য করা হবে না। প্রতিটি শিল্পকর্মে বাংলাদেশের কথা, মানুষের কণ্ঠ এবং দেশের পরিচয় প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য থাকবে দেশপ্রেম, নৈতিক দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক চেতনা জাগ্রত করা।
তিনি সতর্ক করেছেন, শিল্প ও সংস্কৃতির নামে অন্য দেশের প্রভাব বা ইসলামফোবিয়া প্রচারের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালাতে হবে। তিনি বলেন, সিনেমা বন্ধ করার পরিবর্তে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং দেশপ্রেমকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার জন্য নতুন সিনেমা, চিত্রকলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি তৈরি করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালির এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা, দেশপ্রেম এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করেছে। শহীদ ওসমান হাদি স্মরণ খালেদা জিয়া দোয়া মাহফিল ঢাবি রোজা অনুষ্ঠান দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
এ ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ প্রজন্মকে শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে নয়, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও দৃঢ় করে। ঢাবি শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেশের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
Comment