
ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক তদন্তে র্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মিলন মল্লিক (২৮)। তিনি নিহত কিশোরীর বাবার মালিকানাধীন একটি খাবারের হোটেলে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি বলেন, হোটেলের কর্মচারী হিসেবে মিলনের ভিকটিমের বাসায় যাতায়াত ছিল এবং কিছুদিন ধরেই সে ওই কিশোরীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে আবারও এমন প্রস্তাব দিলে কিশোরী তাকে তিরস্কার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন প্রতিশোধের পরিকল্পনা করে মিলন।
গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি ভবন থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ছাত্রী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং তার বয়স ১৭ বছর।
ঘটনার সময় ভিকটিমের বাবা-মা ও ভাই হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার জিমে যাওয়ার পর ফিরে এসে ঘরে বোনকে অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. সজিব খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শুরুতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন বিভিন্ন সময় মিলনের বাসায় প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়।
হত্যার পর সে বাসা থেকে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও র্যাব জানিয়েছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
Comment